ইসলামে চিত্রকলা ও ভাস্কর্যের বিধান


চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্য বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি একটি শাস্ত্রীয়, নান্দনিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

Meta Description: ইসলামে চিত্রকলা, ছবি আঁকা ও ভাস্কর্য নির্মাণের কুরআন, হাদীস, প্রাচীন তাওরাত ও ফিকহবিদদের মতামত বিশ্লেষণ ।

ভূমিকা

ইসলাম একটি সার্বিক ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানবজীবনের মানসিক, আত্মিক ও বৈষয়িক, যাবতীয় গতিপ্রবাহকে ইসলাম নির্দেশিত নীতির আওতায় আনয়ন করেছে। মানবমননে সৌন্দর্যানুভূতির বহিঃপ্রকাশ ও শিল্পসাধনার যে সুকুমার প্রবৃত্তি বিদ্যমান, ইসলাম তাকে নীতিগতভাবে উপেক্ষা করে না। তবে শিল্পচর্চা যেন তাওহীদের (একশ্বেরবাদ) মৌলিক আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং মানবজাতিকে পুনরায় ব্যক্তিপূজা, প্রতীকপূজা বা অনর্থক অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত না করে, সে বিষয়ে শরীয়াহ অত্যন্ত সচেতন সীমারেখা নিরূপণ করেছে।


দৃশ্যশিল্পের প্রধান দুটি মাধ্যম, চিত্রকলা (Painting) এবং ভাস্কর্য (Sculpture)। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে: চিত্রাঙ্কন ইসলামে বৈধ কি না, কতটুকু বৈধ, এবং ইতিহাসজুড়ে মুসলিম সমাজে চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্য চর্চার যে বিকাশ দেখা গেছে তার অবস্থান ফিকহের দৃষ্টিতে কেমন? এ সকল প্রশ্নের অ্যাকাডেমিক ও শাস্ত্রীয় জবাব অনুধাবন করা একান্ত আবশ্যক।

১. পরিভাষাগত ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: সূরাহ, তাছবীর ও তিমছাল

ইসলামী আইনশাস্ত্রে (ফিকহ) চিত্রশিল্পের শরয়ী বিধান নির্ধারণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট আরবী পরিভাষাগুলোর শব্দমূল ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আরবী ভাষায় ছবি, প্রতিচ্ছবি ও ভাস্কর্য প্রকাশে প্রধানত তিনটি শব্দ ব্যবহৃত হয়: ‘সূরাহ’ (صورة), ‘তাছবীর’ (تصوير) এবং ‘তিমছাল’ (تمثال)

(ক) আধুনিক ও প্রাচীন অভিধানের পরিভাষা

আধুনিক আরবী শব্দকোষে ‘সূরাহ’ ও ‘তাছবীর’ শব্দ দুটিকে সমার্থবোধক হিসেবে দ্বিমাত্রিক শিল্পকর্মের (Two-dimensional) জন্য প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ ক্যানভাস, কাপড়, কাগজ বা দেয়ালে রঙ, তুলি কিংবা কালির মাধ্যমে অঙ্কিত ছবি, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আছে কিন্তু কোনো কায়িক উচ্চতা বা স্থূলতা নেই।

অপরদিকে ‘তিমছাল’ বলতে ত্রিমাত্রিক (Three-dimensional) অবয়ব বা ভাস্কর্যকে বোঝানো হয়, যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা রয়েছে এবং যা দৃশ্যমান ছায়া ফেলে। যেমন: কাঠ, পাথর, সোনা, রূপা, ব্রোঞ্জ বা মাটি দ্বারা নির্মিত মূর্তি বা পুতুল।

(খ) ফকীহ ও ভাষাবিদদের অভিমত

তবে হাদীস ও প্রাচীন ইসলামী সাহিত্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাথমিক যুগে এই শব্দগুলোর অর্থগত ব্যবধান এত সুনির্দিষ্ট ছিল না।

  • ইবনে মানযুর (রহ.): তাঁর বিখ্যাত ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে উল্লেখ করেছেন, তিমছাল এবং সূরাহ মৌলিকভাবে একই অর্থ বহন করে।
  • আল্লামা যামাখশারী (রহ.): বলেন, "সজীব বা নির্জীব যেকোনো বস্তুর আকৃতির অনুকরণে যা কিছু চিত্রিত বা নির্মিত হয়, তা-ই তিমছাল।"
  • হাফিজ ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহ.): সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যায় লিখেছেন, "অঙ্কিত বা নির্মিত বস্তুকে তিমছাল বলা হয়, তা কায়াবিশিষ্ট ভাস্কর্য হোক কিংবা কাপড়ের বুনন বা তেলরঙে আঁকা স্রেফ নকশাই হোক।"

সুতরাং, শরীয়তের মূল পাঠ্যসমূহে (Text) চিত্রকর্ম এবং ভাস্কর্য উভয়কেই বোঝাতে এই শব্দগুলো পরস্পর আবর্তিত হয়েছে।

২. আল-কুরআনের আলোকপাত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

পবিত্র কুরআনে 'তাছবীর' (আকৃতি নির্ধারণ) ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত শব্দসমূহ যেসব জায়গায় এসেছে, তার প্রতিটিতেই আকৃতি রূপদানের ক্ষমতাকে মহান আল্লাহর একচ্ছত্র ঐশ্বরিক সিফাত বা গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

(ক) আল্লাহর সৃষ্টির অনন্যতা

  • সূরা আলে ইমরান (আয়াত ৬): "তিনিই সেই সত্তা, যিনি মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন।"
  • সূরা আল-হাশর (আয়াত ২৪): "তিনিই আল্লাহ তায়ালা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক ও রূপদাতা (আল-মুছাব্বির)। উত্তম নামসমূহ তাঁরই।"

কুরআনের এই আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে যে, মূল অবয়ব ও আকৃতি দান করা নিরঙ্কুশভাবে মহান সৃষ্টিকর্তার কাজ। মানুষ যখন কোনো সজীব বস্তুর পূর্ণাঙ্গ রূপ তৈরি করে, তখন তা আপাতদৃষ্টিতে স্রষ্টার রূপদান বৈশিষ্ট্যের অনুকরণের শামিল হয়ে দাঁড়ায়।

(খ) সুলাইমান (আ.)-এর ঘটনা ও প্রাচ্যবিদদের সংশয়

কুরআনে 'তিমছাল' শব্দটির বহুবচন 'তামাছিল' এসেছে সূরা সাবা-র ১৩ নম্বর আয়াতে, যেখানে হযরত সুলাইমান (আ.)-এর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে:

"জিনেরা সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী উঁচু উঁচু প্রাসাদ, তামাছিল (ছবি/প্রতিমা), হাউজের মতো বড় বড় থালা এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগসমূহ তৈরি করত..."

কিছু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারী আধুনিক চিন্তাবিদ দাবি করেন, যেহেতু সুলাইমান (আ.) জীনদের দিয়ে ‘তামাছিল’ তৈরি করিয়েছিলেন, সেহেতু ইসলামে প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ বৈধ। তবে মুফাসসিরে কিরাম এই যুক্তি খণ্ডন করে দুটি প্রধান ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন:

  1. তাওরাতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা: বনী ইসরাঈলের অন্যান্য নবীদের মতো সুলাইমান (আ.)-ও তাওরাতের শরীয়ত অনুসরণে বাধ্য ছিলেন। তাওরাতে চিত্র ও মূর্তি নির্মাণ সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর বাণী বিদ্যমান।
    • যাত্রা পুস্তক (২০:৪): "তুমি নিজের জন্য কোনো খোদিত প্রতিমা তৈরি করো না; উপরে স্বর্গে বা নিচে পৃথিবীতে বা জলের মধ্যে যা আছে, তার কোনো রূপ মূর্তি গঠন করো না।"
    • দ্বিতীয় বিবরণ (৪:১৬-১৮): "সাবধান থেকো, যেন ভ্রষ্ট হয়ে কোনো পুরুষ, নারী, পশু, পাখি বা সরীসৃপের আকৃতির মূর্তি নির্মাণ না করো।"
    অতএব, তাওরাতের এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুলাইমান (আ.) প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটি ইসরাঈলী অপপ্রচারের অংশ।
  2. নির্মিত বস্তুগুলোর প্রকৃতি: আল্লামা আশ-শাওকানী এবং তাবাতাবায়ী উল্লেখ করেন, জিনরা সুলাইমান (আ.)-এর জন্য ফুল, পাতা, প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মনোরম জ্যামিতিক নকশা তৈরি করত। আর যদি মানাও হয় যে পূর্বে প্রাণীর প্রতিকৃতি বৈধ ছিল, তাহলেও শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরীয়ত দ্বারা পূর্ববর্তী শরীয়তের সেই অনুমোদন রহিত (মানসূখ) হয়ে গেছে।

৩. সুন্নাহ ও হাদীসশাস্ত্রের সুস্পষ্ট অনুশাসন

চিত্রকলা ও ভাস্কর্য বিষয়ে হাদীস শরীফে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর দিকনির্দেশনা এসেছে। হাদীস বিশারদগণ সিহাহ সিত্তাহ সহ বিভিন্ন বিশুদ্ধ গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসগুলোকে কয়েকটি প্রধান শিরোনামে বিন্যস্ত করেছেন:

(ক) রহমতের ফেরেশতা বর্জন

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা.) এবং হযরত আবু তালহা (রা.) থেকে বর্ণিত:

"যে ঘরে কুকুর অথবা কোনো প্রাণীর চিত্র বা ভাস্কর্য থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।"

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে সজীব বস্তুর ছবি বা ভাস্কর্য ঝুলিয়ে রাখা বা সম্মানজনক স্থানে স্থাপন করা ফেরেশতাদের অসন্তুষ্টির কারণ এবং এটি রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম হেতু।

(খ) পরকালে কঠিনতম শাস্তি ও প্রাণ সঞ্চারের নির্দেশ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন:

"কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে চিত্রকর ও ভাস্কর্য নির্মাতারা।"  (সহীহ বুখারী)

অপর একটি হাদীসে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন:

"যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো প্রাণীর ছবি আঁকবে বা ভাস্কর্য নির্মাণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে আদেশ করা হবে তাতে প্রাণ ফুঁকে দেওয়ার জন্য। অথচ সে কখনই তা করতে সমর্থ হবে না।" — (সহীহ মুসলিম)

(গ) স্রষ্টার সৃষ্টিবৈশিষ্ট্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

"ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চায়? সাহস থাকলে তারা একটি শস্যদানা কিংবা একটি পিঁপড়া সৃষ্টি করে দেখাক!", (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

৪. ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি: চিত্রশিল্পের শ্রেণিবিভাগ

ইসলামী আইনশাস্ত্রবিদগণ (ফকীহগণ) আল-কুরআন ও সুন্নাহর সমস্ত দলীল পর্যালোচনা করে চিত্রশিল্পকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন:

১. প্রাণিবাচক চিত্র (Animate Objects)

মানুষ, পশু, পাখি বা যেকোনো সজীব প্রাণীর চিত্র বা ভাস্কর্য তৈরি করা সম্পর্কে অধিকাংশ ফকীহদের সিদ্ধান্ত নিম্নরূপ:

  • ত্রিমাত্রিক ভাস্কর্য (Moulded Sculpture): এটি সর্বসম্মতিক্রমে নিষিদ্ধ ও হারাম।
  • দ্বিমাত্রিক চিত্র (Painting/Drawing): দেয়াল, কাপড় বা ক্যানভাসে অঙ্কিত সজীব প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ ছবি টাঙানো বা সম্মানজনক অবস্থায় রাখা জুমহুর (অধিকাংশ) উলামাদের মতে নিষিদ্ধ।

২. অপ্রাণিবাচক চিত্র (Inanimate Objects)

গাছপালা, লতাপাতা, পাহাড়, নদী, সাগর, আসমান, নিসর্গ, জ্যামিতিক নকশা ও আরবী ক্যালিগ্রাফির ছবি আঁকা সম্পূর্ণ বৈধ এবং প্রশংসনীয়।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে যখন এক পেশাদার চিত্রকর এসে ফতোয়া চাইল যে, সে ছবি একেই জীবিকা নির্বাহ করে, তখন ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে উপদেশ দিয়ে বললেন:

"তোমার যদি চিত্রাঙ্কন করতেই হয়, তবে তুমি গাছপালা, আসমান-জমিন এবং প্রাণহীন বস্তুসমূহের ছবি আঁকো।" , (সহীহ বুখারী)

৫. আধুনিক ফিকহ ও শিথিলতার ক্ষেত্রসমূহ

যুগের বিবর্তন ও আধুনিক জীবনের নানা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে ইসলামী ফকীহগণ ফিকহের মূলনীতি—‘আল-জরূরাতু তুবীহুল মাহযূরাত’ (প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বস্তুকে সাময়িক বৈধ করে), এর আলোকে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে শিথিলতা অনুমোদন করেছেন:

  1. আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোকচিত্র (Photography): পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অপরাধী শনাক্তকরণ ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার স্বার্থে তোলা ছবি বা ডিজিটাল আলোকচিত্র আধুনিক অধিকাংশ বিজ্ঞ ফকীহদের (যেমন: শেখ বিন বাজ, মুফতী তাকী উসমানী) মতে বৈধ।
  2. চিকিৎসা ও শিক্ষাসংক্রান্ত চিত্র: চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানবদেহের অঙ্গসংস্থান (Anatomy) শেখানোর জন্য অঙ্কিত ডায়াগ্রাম বা নকশা তৈরি শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদিত।
  3. শিশুদের খেলনা ও পুতুল: সহীহ বুখারীতে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আয়েশা (রা.) বাল্যকালে পুতুল নিয়ে খেলতেন এবং রাসূল (সা.) এতে বাধা দেননি। এর ওপর ভিত্তি করে ফকীহগণ শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে নির্মিত খেলনা বা পুতুলকে ছাড় দিয়েছেন।
  4. অসম্মানজনক বা তুচ্ছ ব্যবহারের ক্ষেত্র: কাপড়ের চাদর, পাপোশ বা গালিচায় এমনভাবে ছবি থাকলে যা পদদলিত হয় বা তুচ্ছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাদীসে শিথিলতা পাওয়া যায়।

৬. বিশ্বকোষীয় সংক্ষেপণ ও নীতিগত সারসংক্ষেপ

বিষয়শ্রেণি শরয়ী হুকুম (বিধান) দলীল / ভিত্তি প্রযোজ্য ক্ষেত্র ও ব্যতিক্রম
সজীব প্রাণীর ভাস্কর্য (Sculpture) হারাম (নিষিদ্ধ) সিহাহ সিত্তাহর মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ পূজার সম্ভাবনা দূরীকরণ ও তাওহীদ রক্ষা।
অপ্রাণিবাচক চিত্র (Nature/Landscape) হালাল (বৈধ) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ফতোয়া পাহাড়, নদী, বৃক্ষ, তারা, জ্যামিতিক নকশা।
ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ও স্থাপত্য মুস্তাহাব/উৎসাহিত মুসলিম বিশ্বের অবিচ্ছিন্ন ঐতিহ্য মসজিদের অলংকরণ, কুরআনুল কারীমের লিপি।
জরুরি প্রয়োজনে আলোকচিত্র (Photography) জায়েয (অনুমোদিত) ফিকহী নীতি: ‘জরূরাত’ বা বাধ্যবাধকতা পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অপরাধ দমন।
শিশুদের খেলনা ও শিক্ষার উপকরণ অনুমোদিত হযরত আয়েশা (রা.)-এর হাদীস শিশুমনস্তত্ত্ব ও গঠনমূলক খেলাধুলা।

উপসংহার

ঐতিহাসিক ও আইন শাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে চিত্রকলার বিধিনিষেধ নিছক কোনো শিল্পের বৈরিতা নয়। বরং এর মূল দূরদর্শী উদ্দেশ্য হলো, মানুষের মনোজগত থেকে মূর্তিপূজা, ব্যক্তিবন্দনা ও শিরকের সমস্ত সুপ্ত পথ চিরতরে রুদ্ধ করা।

প্রথাগত প্রাণিবাচক চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্যকে নিরুৎসাহিত করলেও ইসলাম নান্দনিকতার দুয়ার বন্ধ করেনি। এর বিকল্প হিসেবে মুসলিম বিশ্ব সৃষ্টি করেছে ‘ইসলামী ক্যালিগ্রাফি’ (Arabic Calligraphy) এবং ‘জ্যামিতিক নকশা’ (Arabesque Pattern), যা বিশ্ব শিল্পকলা ও স্থাপত্যের ইতিহাসে এক অতুলনীয় নান্দনিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। ইসলামি নান্দনিকতা পদার্থের অবয়ব পূজায় বিশ্বাসী নয়, বরং তা নিখিল বিশ্বের পরম স্রষ্টার একত্ববাদ ও অপার সৌন্দর্যের অনুধ্যানে বিশ্বাসী।

📖 প্রধান তথ্যসূত্র ও আকর গ্রন্থাবলী:

  1. পবিত্র কুরআন ,  সূরা আলে ইমরান, সূরা সাবা, সূরা আল-হাশর।
  2. সহীহ আল-বুখারী ,  কিতাবুল লিবাস, কিতাবুত তাফসীর।
  3. সহীহ মুসলিম — কিতাব আল-লিবাস ওয়া আল-যীনাহ।
  4. ফাতহুল বারী ফি শারহি সহীহিল বুখারী ,  হাফিজ ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহ.)।
  5. আল-মিনহাজ শারহু সহীহ মুসলিম , ইমাম মহিউদ্দীন ইয়াহইয়া বিন শরাফ নববী (রহ.)।
  6. ফিকহুস সুন্নাহ — সায়্যিদ সাবিক।
  7. মূর্তি, ছবি ও আলোকচিত্র, সাইয়েদ সুলাইমান নদভী (অনুবাদ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন)।
sp;

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ঝরোকা পরিবারে আপনাকে স্বাগতম! অনুগ্রহ করে গঠনমূলক ও মার্জিত মন্তব্য করুন।;

comment url